
মাত্রা | MATRA
২০২১ সালে পাহাড়ের নারীদের নিয়ে কাজ শুরু । নৃতাত্ত্বিক মানুষ দূর্গম পাহাড়ে অত্যন্ত কষ্টের সাথে জীবনের সাথে লড়াই করে, টিকে থাকার জন্য । তাদের দিকে আমি হাত বাড়াই । আমি তাদের উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করছি নিজ এবং সুহৃদের অর্থায়নে যা এখন পর্যন্ত চলমান । পুঁজি তৈরি করতে সহায়তা দিয়ে আসছি । এই কাজটি করছে "মাত্রা" আমার স্লোগান , "মাত্রা" নারীর , স্বস্তির যাত্রা । "মাত্রার" মাধ্যমে এই নারীদের জীবনে স্বস্তির মাত্রা টেনে দিতে চেয়েছি । এপর্যন্ত ৫০০ এর অধিক নারী সহায়তা পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে । এর বাইরেও বিভিন্ন মানুষের পাশে "মাত্রা" দাঁড়িয়েছে দাঁড়াচ্ছে । আশাকরি সাধ্যমত আমি এবং আমরা আরো অনেকের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারবো 'মাত্রা'র মাধ্যমে ।
Ferdawsi Pervin started Matra to change the fate of the deprived tribal women of the south hills of Bangladesh. Ferdawsi began to help ladies run small businesses by funding them with seed money to start their business.
একলা পথে
একলা পথে ---
দেখতে দেখতে অনেকগুলি দিন পার হয়ে গেল । দুটো সকাল কি এক ? নাকি বদলেছে তার দিগন্তরেখায় অনেকখানি । সেইদিন ভেসে এলো স্মৃতির খেরোখাতা নিয়ে । আমি পাতা উল্টে গেলাম।
প্রতিটি ছবি প্রকৃতির রঙে বিভোর ।
অন্ধকার মুছতে শুরু করেছে আকাশের প্রান্তরেখায় ।
গায়ে আলোর রেখা ফুটতে শুরু করেছে । আলো মানেই জীবন , আলো মানেই আরো কিছু সম্ভাবনা , আরো কিছু স্বপ্ন ,আরো কিছু আশা । সারারাত দুই সিটে রাজকীয় ভাবে একপ্রকার শুয়েই এস পৌঁছুলাম পাহাড়ি এক জনপদে। হামলে পড়েছিলো একরাশ বুনো গন্ধ । শুধু যে গন্ধটা পেতে চেয়েছিলাম তা পেলাম না ভোরের লাজ। আজ থেকে অনেক বছর আগে যখন প্রথম পাহাড় দেখেছিলাম তখনই প্রেমে পড়েছিলাম এই মূকবধির অহংকারের । কি এক একাকীকিত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মাথা উঁচু করে । এই প্রেম বেড়েছে কঠিনে কমলে । যখনি সম্ভব হয়েছে ছুটে গেছি পাহাড়ের কাছে দেশে, বিদেশে । দেশের বাইরে বেড়াতে গেলেই পাহাড়েই বেশী যাওয়া হয়েছে । দেশে পার্বত্যাঞ্চলের তিনটি জেলাতেই বার বার যাই ।
একটি অধ্যায় শেষ করে এসেছি
নিজেকে নতুন করে আবিস্কার করতে । একটি লেখার বিষয়ও মাথায় নিয়ে আসা ।
যাইহোক ভোর মেখে নেমে পড়লাম বুনোগন্ধ মাখা এই শহরে । এখনো জাগেনি শহর । সবে আড়মোড়া ভাঙছে । শীত যেতে যেতে থমকে দাঁড়িয়েছে আদিমতার অন্ধকারে । কুয়াশার হালকা আস্তিনে ঢেকে আছে গাছপালা । ব্যাগপত্র গুছিয়ে নেমে পড়লাম। খুব পরিচিত না হলেও একেবারে অচেনা নয় । বছর তিনেক আগে একবার এসেছিলাম । পরিবর্তন চোখে পড়লো না । কিংবা পরিবর্তন ঘটেছে ভেতরে ভেতরে কিন্তু আমার চোখে পড়ছে না । কথিত টমটম নিয়ে গাইরিংয়ের দিকে চললাম । আগে থেকেই বুকিং দেয়া ছিল । মালিকের সাথে আমার পরিচয় আছে ।
প্রবল শব্দে এসে দাঁড়ালাম হোটেল চত্তরে । এখানেও জীবন শুরু হয়নি । আমাদের দিকে ঘোড়ার গাড়িকে টমটম বলে , এখানে অশ্বশক্তিতে চলে টমটম । রূপান্তরের আর এক রূপ ।
খুব টায়ার্ড লাগছিল । সকালে এক জায়গায় যাবার কথা আছে । বেশ বড় রুম দুইপাশে দুটি খাট । ব্যবস্থা খারাপ নয় । যদিও এরা এখনো প্রফেশনাল হতে পারেনি পুরোপুরি । কাজ চলে যায় । আমার বরাবরই ভালো হোটেলে থাকতে ভালো লাগে । কি নিশ্চিন্তি সময় কাটে । উল্টো পাল্টা করে বেড়িয়ে যাও কিন্তু ফিরে এসে ঠিক টিপটপ পেয়ে যাবে সবকিছু । আরাম করে কাটানো সময় , প্রকৃতি উপভোগ করো ।
বারান্দা খুলে বাইরে এসে দাঁড়ালাম । জোরে অক্সিজেন টেনে নিলাম বুক ভরে । বাতাসে ফাগুনের গন্ধ । এবার ফাগুনকে সামনে রেখে এসেছি । এইসময়ে 2013 সালে এপথে রাংগামাটি গিয়েছিলাম। তখন পথের বাঁকে বাঁকে পলাশের হোলি দেখেছি যা স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে । কলিগরা সাথে ছিল অফিসিয়াল কাজে এসেছিলাম । এবার এসেছি একা । আমার কাছে মনে হয় প্রকৃতি দেখতে হলে একা। চুপচাপ আকন্ঠ পান করা । আমার জানা ছিল না পলাশ এখন আর তেমন করে দোল খেলে না। পথের প্রান্তরেখায় দাঁড়িয়ে বিলোল কটাক্ষ হানে না ।
বিছানায় কিছুটা সময় কাটিয়ে প্রস্তুত হলাম মানিকছড়ি যাবার জন্য । একটা সি এন জি ঠিক করে দিয়েছে হোটেল কতৃপক্ষ । সেটাতেই যাবো। আমার পথপ্রদর্শকের আচরণ অন্য রকম মনে হলো । তাকে আমি চিনি কিন্তু খুব অচেনা মনে হলো । রিসিভশন থেকে জানালো আমি যেখানে যেতে চাইবো সেখানেই নিয়ে যাবে । মালিক বলে দিয়েছে ।
যাবার জন্য নিচে নেমে আসতেই সি এন জিতে উঠে চলে গেলাম মানিকছড়ি । রাজবাড়ি দেখে ভালো লাগলো যদিও সি এন জির শব্দটা নিতে পারছিলাম না । ফিরে এলাম পথের পাশে হোটেলে পাহাড়ি খাবার খেয়ে । তেলবিহীন সবজি ভালো লাগলো বেশ।
বিকেলে বিকাশ দা তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে ডেকেছেন আমার সম্মানে । তাদের সাথে আলাপ হলো সাথে প্রচুর খাওয়া দাওয়া । বিকাশ দা এই হোটেলের মালিক নন শুধু বিশিষ্ট ব্যবসায়ীও । তিনি পরদিন আদিবাসী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়ে গেলেন। প্রকাশিত
আমার লেখা বইগুলো উপহার দিলাম ।
বুঝতে পারছিলাম,জীবন অন্য কোথাও জীবনের গল্প লিখছে । যে সব জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল পথপ্রদর্শক যেতে পারবে না জানালো । আমি ঠিক করলাম একা মুভ করবো । কালো মসৃণ পথের মোড়ে মোড়ে ঝরা পাতার কান্না দেখে দুটো দিন কেটে গেল। পাখির চোখে দেখে নিলাম অনেক অদেখাকে । ফেরার টিকেট কনর্ফাম করলাম । একদিন একটি পলাশের লাজুক হাসি চোখে পড়লো । সেগুনের পাতা শুন্য নিরাভরণ চেহারা বুকের মধ্যে হাহাকার হয়ে অনেক কথা বলছে । সব বুঝতে পারছি । বসন্ত দেখতে এসেছি । শীত চলে যাচ্ছে একটি বছরের জন্য আর হয়তো দেখা হবে না । নতুন ও পুরাতনের পালাবদলের সাক্ষী হতে চেয়েছিলাম । কিন্তু পাহাড়ে বসন্তসখার দেখা পেলাম না । দরিদ্র পাহাড়ের জন মানুষের যাপিত জীবনে বসন্ত কি করে দ্বার খোলে জানা হলো না । যেদিকে তাকাই শুধু শুনি বসন্তের বিলাপ । এমন বসন্ত আমি চাইনি । চেয়েছিলাম মারমা নারীর চুলে বসন্তের মহাকাব্য লিখতে । পলাশের আলোয় আলোকিত হবে ভেতর বাহির । ত্রিপুরা কন্যের থামিতে দোলা দিয়ে যাবে মাতাল সমীরণ । গন্ধে মাতাল হবে পথভোলা পথিক ক্ষণিকের জন্য হলেও । পাকদণ্ডি বেয়ে উঠতে উঠতে কোন একটা অজানা ফুলের গন্ধ পেলাম । আমের বোল দেখতে পেলাম ছোট একটা গাছে । একেবারে ঝেঁপে এসেছে । মায়াবিনী লেকে সূর্য আবির গুলে দিলো । দূর পাহাড়ে ছায়া দীর্ধতর হচ্ছে । দীর্ঘতর হচ্ছে ব্যাবধান । ভেতরের পরিবর্তন কি আচমকা স্পষ্ট হচ্ছে ?
মহাকালের গর্ভে হারাচ্ছে একটা ঋতু , কিছু স্মৃতি ,কিছু গল্প । বাতাসে অবিশ্বাসের সুর শুনতে পাচ্ছিলাম । প্রকৃতি কি মানুষের মতো প্রতারণা করছে ? কেন অপেক্ষায় নাই আমার মতো ভালোবাসার মানুষের জন্য । কেন একটুখানি বসন্তের রঙ ছুঁয়ে দিল না ! কি বা ক্ষতি ছিল তাতে ? গভীরতম অন্ধকারে নেমে পড়লাম পথে । হেড লাইটের আলোয় শাল সেগুনের জড়াজড়ির গল্প চোখে পড়লো । বুনো গন্ধমাখা রাত টেনে নিল পথের সীমানায় ।
কিছু গল্প কি কখনওই লেখা হয় না ? গল্পে থেকে যায় চোরাপথ । যে পথে হাতছানি দেয় পাহাড়কে অন্য কোন মেঘবালিকার আলিঙন ।
11 . 2 . 2026
শুভ সকাল।












