
সুখের শব্দসুমহ
- ফেরদৌসী পারভিন | Ferdawsi Pervin
- Feb 26
- 2 min read
সুখের শব্দ সমুহ -----
দীর্ঘ ৩২ বছরের বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় ছিলাম। বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে প্রফেসর হয়েছি এবং অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নিয়েছি। আমি প্রফেসর ফেরদৌসী পারভিন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় চাকুরী করেছি। স্বামীর চাকুরীর সুবাদে অনেক জেলায় ঘুরেছি। চাকুরীর ক্ষেত্রেও শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন উইংএ কাজ করেছি। সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের গবেষণা সেক্টর থেকে শুরু করে ,প্রজেক্টে ,ছেলেদের কলেজে , মেয়েদের কলেজে। কোএডুকেশন কলেজে , টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ,বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। শেষে গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ। সেখানেও ৫বছরের অধিক সময় চাকুরী জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় শেষ করেছি।
সমস্ত কর্মস্থলের আলাদা আলাদা ফ্লেবার ছিল এবং নতুন নতুন বিষয় শেখার সুযোগ হয়েছে। যা জানতাম না তা জেনেছি ,শিখেছি। ঋদ্ধ হয়েছি সহকর্মীদের সংস্পর্শে।
প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে। তাদের আচরণ ,গুনাগুন ,জ্ঞান আমার জানার এবং অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়িয়েছে। জ্ঞানের ভান্ডারে যেমন অনেক মনি মক্তা জমা হয়েছে তেমনি মানুষ সর্ম্পকে অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ হয়েছে। মানুষকে কিছুটা হলেও চিনতে শিখেছি।
প্রতিটি কর্মস্থল আলাদা চরিত্রে ,আঙ্গিকে। ফলে শিক্ষা বিভাগের আলাদা বৈশিষ্ট্যের আলাদা চরিত্রের সাথে আমার পরিচয় ঘটেছে। এদিক দিয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনেহয় । বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কাজ করার জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি বেশি। সমস্ত কর্মস্থলে কর্মের ভিন্নতা আমাকে আরো কর্মমুখী করেছে।
সমস্ত কর্মস্থল এই অবসর জীবনে এসে তারার মতো মনের আকাশে জ্বলজ্বল করে। তবে শেষ কর্মস্থল গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ আমার মনের গভীরে শুকতারার মত জেগে থাকবে আমৃত্যু।
অধ্যক্ষ থাকাকালীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে যে স্বপ্ন আমি দেখতাম তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে গেছি এবং অনেকটাই সফল হয়েছি। সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিলো ১৯৫৬ সাল থেকে ভোগ দখল করা সরকারি জমি ,যার পরিমাণ ৪ বিঘার বেশি তা কলেজের অনুকূলে উদ্ধার করেছি। হাইকোর্টের বারান্দায় হেঁটেছি দেড়বছর। হুমকি ধামকি সব উপেক্ষা করে দিনের পর দিন দৌড়েছি বিচারালয়ে। মৃত্যুর হুমকি পর্যন্ত এসেছে। আলহামদুলিল্লাহ। জমিটা গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ পেয়েছে। সেখানে যে টাকা বরাদ্দ করে এসেছিলাম নতুন বিল্ডিংয়ের জন্য সেখানে নতুন বিল্ডিং হয়েছে।
ধান ভানতে শীবের গীত অনেকটাই গেয়ে ফেলেছি। যাইহোক এবার আসি সুখের কথায়। আমার মেয়েরাতো সবসময় যোগাযোগ করে পরামর্শ চায় এবং অনেকেই নিজের একান্ত ব্যাক্তিগত সমস্যার কথা বলে পরামর্শ চায়।
কলেজে থাকা অবস্থায় মেয়েরা সমসময় বলতো ,ম্যাম আপনার মতো হতে চাই। আমি বলতাম আমার চেয়েও বড় হও। ভালো লাগায় মন ভরে যেতো । আমার এমন কিছু এক্সসেপশনাল গুন নাই যে আমার মতো হতে চাইবে। তবু্ও শেষদিন পর্যন্ত শুনেছি ,ম্যাম আপনার মতো হতে চাই। এখনো ফোন করেও একই কথা বলে। তখন ভালো লাগায় মন ভরে যায়।
কিন্তু কোন সহকর্মী যখন বলে , আমি ফেরদৌসী ম্যাডামের মতো শিরদাঁড়া সোজা রাখা অধ্যক্ষ হবো ,যদি কোনদিন প্রিন্সিপাল হতে পারি। কথাগুলো আমার একসময়ের জুনিয়র সহকর্মীর। তিনি অন্য কলেজের কয়েকজন কলিগের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে একথা বলেন। সেইসকল সহকর্মীদের একজন ফোনে আমাকে কথাগুলো জানায়। আমি যারপরনাই সম্মানিত হই রেহেনা নাসরিনের কথায়। সত্যিই একজন শিক্ষক ও প্রশাসক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে হয়েছে। আমি আপ্লুত হয়েছি। এটা একজন মানুষের অনেক বড় সৌভাগ্য।
রেহানা নাসরিন আপনি আমার চেয়েও যোগ্য প্রিন্সিপাল হবেন। আপনি অত্যন্ত মেধাবী ,পরিশ্রমী এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ একজন শিক্ষক । তাই আপনি অনেক যোগ্য অধ্যক্ষ হবেন ভবিষ্যতে। আপনি সুস্থ থাকুন ,,ভালো থাকুন এবং এগিয়ে যান অভিষ্ঠ লক্ষ্যে। আল্লাহ আপনার আশা পূরণ করুন এই দোয়া থাকবে সবসময় । আপনার মূল্যায়নে নিজের কাজগুলো সার্থক মনে হচ্ছে। ধন্যবাদ।
প্রফেসর ফেরদৌসী পারভিন
২৪/২/২০২৬
উত্তরা।

Comments