অবিশ্বাসের যাঁতাকলে জনগণ ।
- ফেরদৌসী পারভিন | Ferdawsi Pervin
- Apr 16
- 3 min read
অবিশ্বাসের যাঁতাকলে জনগণ -----
সরকার ,সরকারে আসার আগে যা বলেছে তা থেকে সরে গিয়ে অন্য ব্যাখ্যা দেয়া শুরু করেছে। তারা অনেকগুলি কমিশন সংস্কার করে আইন হিসেবে পাশ করেননি যা একসময় তাদের দাবী ছিল। কিন্তু ক্ষমতার মসনদে বসে , পুলিশ কমিশন ,মানবাধিকার কমিশন , বিচার বিভাগ ,,দূর্নীতি দমন কমিশন , গুম কমিশন সহ অনেকগুলি বিষয় সংস্কার থেকে বাধ দিয়েছেন এখন পর্যন্ত যদিও সরকার বলেছে তারা অন্যভাবে করবে। যদি করেন তাহলে এখন কেন নয় ? এখানে বলে রাখা দরকার যে ইতোমধ্যেই মানবাধিকার কমিশনের সকল সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
ইউনুস সরকারের সমালোচনার পাহাড় রয়েছে যা বলে বেড়াচ্ছেন। পেইড কিছু মানুষ টকশোতে এসে গলা ফাটাচ্ছেন যা আমরা প্রতিদিন দেখছি বা জানছি। সারা দেশের মানুষ অবাক হচ্ছে। সরকার এক একবার এক এক কথা বলছেন । কিন্তু আমজনতার এই ব্যাখ্যার প্রয়োজন নাই। জনগণ কোন পার্টি নয়। তারা ক্ষমতার সুখ চায়না। তারা চায় আগের অবস্থায় যাতে ফিরে না যায় সরকার। জনগণ চায় রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে যে সকল মানুষ আছে তারা রাষ্ট্রের ইতিবাচক সুবিধা চায়। তাই সেগুলো সংসদে সংস্কারের জন্য তোলা হচ্ছেনা কেন? বি এন পির অনেকে বলার চেষ্টা করছেন জনগণ ভোট দিয়ে তাদের মেজরিটি দিয়েছে । তাই তারা তাদের মতো করে করবেন সংস্কার। কিন্তু তারা কেন ভাবছেন যে জনগণ খুব বোকা? জনগণ ভোট দিয়েছে বিশ্বাস করে যে বি এন পি সরকারে এসে আনীত সংস্কার জনগণের জন্য করবেন। যখন জনগণ দেখছে সরকার বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে সংস্কার করছেনা বা করতে চাইছেনা তখনই অবিশ্বাস জন্মাচ্ছে। এবং সেখানে ধুঁয়া দিচ্ছে কিছু পেইড টকশোজীবিরা।
বি এন পি সংস্কার চাইছেনা এটা কেন জনগণ ভাবছে এটা প্রশ্ন আসতে পারে।
বিশ্বাস করছেনা কারণ উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় লোক বসিয়েছে । এই কাজতো পতিত সরকার করেছে আর সেটাতেই জনগণের আপত্তি। জনগণ তো এইজন্য জীবন দেয়নি। জনগণের রাষ্ট্রে জনগণের অংশগ্রহণ কোথায় ? অংশগ্রহণ হবে তখনই যখন নির্বিচারে দলীয় নিয়োগ বন্ধ করে যোগ্য লোকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
কিন্তু আমরা কয়েকদিন আগে বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচন দেখেছি। তাতে ভাবতে বাধ্য করছে দলীয় সরকারের অধীনে ভালো নির্বাচনে হয়না।
সরকারি দলের মন্ত্রী মহোদয়গন সংবিধান পড়াচ্ছেন প্রতিদিন। আমি মূর্খ মানুষ সংবিধানের ব্যাপারে। আমি বুঝতে চাই ৫ ,তারিখে ৭ তারিখে অনেককিছু হয়েছে যা সবাই জানেন । অন্তর্বতিকালীন সরকার গঠিত হয়েছে ৮ তারিখ । তাহলে কি করে আগের কাজগুলো হয়েছে। আবার অনেকেই মামলায় হাজিরা দিয়ে জামীন না নিয়ে সব মামলা থেকে খালাস পেয়ে গেছে জনগণ সেটাও বুঝতে চায় ।
জ্বালানি তেল নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। সরকার বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা বলে যাচ্ছেন জ্বালানি সংকট নাই। কেউ বলছেন , কে বলেছে তেল নাই ?
আমি আমার অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমি ২৫ বছর ধরে গাড়ি চালাই এই শহরে। প্রতিদিন আমাকে কর্মস্থলে আসা যাওয়া করতে হয়েছে। বলে রাখা ভালো আমার কখনোই ড্রাইভার ছিলনা। ফলে তেল আমাকেই নিতে হয়েছে।
একটি দিনের উদাহরণ নাই আমি তেল আনতে যেয়ে ফিরে এসেছি । কিন্তু এবার গত একমাসের বেশি হলো আমি পাম্পে যেয়ে তেল নিতে পারিনি । হয় বন্ধ নাহয় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে লম্বা লাইনে। তিন / চার ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে এক হাজার টাকার তেল দিচ্ছে যা নেয়া আমার সম্ভব হয়নি। কিন্তু সরকার দলীয় লোকজন সমস্যার বিষয়ে কথা নাবলে আগে কি হয়েছে সেটা বলছেন। আগেরটা যাতে আর না হয় তাইতো এতো রক্ত দেয়া।
প্রফেসর ইউনুস সাহেবকে গালাগালি করার জন্য মিডিয়াতে কিছু লোক নিযুক্ত হয়েছেন। প্রফেসর ইউনুস এবং তার পারিষদের বিরুদ্ধে প্রমাণসহ অভিযোগ থাকলে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা ? কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। তাই গালাগালি না করে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ দিয়ে ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করুন।
প্রফেসর ইউনুস সরকারের অনেক ব্যার্থতা আছে। কিন্তু তাদেরকে রাজনৈতিক দলগুলো কাজ করতে দেয়নি।
সকল ব্যার্থতা বাদ দিলেও যেকটি সংস্কার তারা করতে চেয়েছেন এবং যেগুলি জন্য জনগণ রক্ত দিয়েছে ,আগের সরকারকে বিতাড়িত করেছে , সেই আগের অবস্থায় থাকার জন্য নয়। কিন্তু সরকার সেই সংস্কারের কাজ না করে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করেছে। এই অবিশ্বাস বাড়তে দিলে সরকারের ভালো কথাও মানুষ বিশ্বাস করবেনা। জুলাইয়ে যোদ্ধারা বারবার বলার চেষ্টা করেছে মানুষের নায্যতা।
মা কালী তুমি কি ঠাট্টাও বোঝনা। সেই গল্পের মতো অবস্থা না হয়। পাঠক গল্পটি জানা না থাকলে অন্য লেখায় বলবো।
ফেরদৌসী পারভিন
কবি ও ক্রিটিক
উত্তরা
১৬ / ৪/ ২০২৬


Comments