আমরা এখন কি করবো ?
- ফেরদৌসী পারভিন | Ferdawsi Pervin
- Apr 9
- 3 min read
আমরা এখন কি করবো ?
বি এন পি বলছে যে সব সংস্কারমূলক অধ্যাদেশ কার্যকর হলোনা তা সংসদে বিল আকারে আনা হবে। সেই বিলে কি থাকবে আমরা জানিনা । তবে এটা বোঝা যায় যে যা অকার্যকর করা হয়েছে তা বিল আকারে কতটা কার্যকর হবে ?? সংস্কারের চেয়ে কম কিছুই থাকবে বলেই মনে হয়। সংস্কার গ্রহণ করলেতো অকার্যকর করা হতো না। এটা খুব সহজে বলা যায়। তাহলে কি আমরা আবার জুলাইয়ের পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাচ্ছি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ।
বর্তমান সরকারের পদক্ষেপগুলো দেখে মনে হচ্ছে তারা জনসাধারণকে ধোকা দিতে শুরু করেছে। যেসব সংস্কার নিয়ে আপত্তি তার প্রত্যেকটি যে কাউকে ক্ষমতার একছত্র আধিপত্য থেকে বিরত রাখবে। যে সংস্কারে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পাবে তাতে আমাদের কেন আপত্তি থাকবে ? নাকি বর্তমান সরকার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে পতিত সরকারের পথে হাঁটতে শুরু করতে চাইছেন। আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা যে ,পতিত সরকার সবকিছু আমরা আর মামুরা করে ফেলেছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বর্তমান সরকারকে জনগণের সরকার হয়ে উঠতে হবে এবং সেটাই ছিল জুলাইয়ের আকাঙ্খা। প্রথম দিকে কোটা নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা গণবিপ্লবে পরিনত হয়। যার ফলশ্রুতিতে আজকের সরকারের ক্ষমতায় আসা। এখন যদি সরকার সবকিছু ভুলে যেতে চান ডিমেনশিয়ার রোগীর মতো তাহলে বলার কিছু নাই। বড়দলগুলো যতো কথাই বলুক না কেন ১৭ বছরে তারা কিছুই করতে পারেনি। সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে লক্ষ লক্ষ মানুষ পালিয়েছে। ৫ই আগষ্টের পর জেলমুক্ত নেতাদের মুখেই শোনা গেছে ,এই ছাত্রদের মাসুম বাচ্চা বলে সম্বোধন করতে তাদের মুক্তিদাতা বলতে। ক্লিপগুলো বের করে দেখতে পারেন বিশ্বাস না হলে। এই প্রযুক্তির যুগে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নাই এটাও হয়েছে বড় জ্বালা ।
আমি খুব অবাক হচ্ছি সরকারি দলের এমন আচরণে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন আমার চোখে একজন আদর্শ নেতা। তাঁর গড়া দল জনগণের প্রাণের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে সবকিছু ভুলে গিয়ে পতিত সরকারের পথে হাঁটতে শুরু করবেন । আজ মনে হচ্ছে বেগম জিয়ার আরো কটাদিন বেঁচে থাকা দরকার ছিল। তিনি বেঁচে থাকলে বি এন পি যা করছে এবং করার কথা বলছে তা কখনোই বলতে বা করতে পারতো না। আমি দেখেছি জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে দুই / তিনদিন কি পরিমাণ সাধারণ মানুষ ও ছাত্র মারা গেছে। টঙ্গী সরকারি কলেজের কয়েকজন ছাত্র মারা গেছে গুলিতে। মুগ্ধ মারা গেছে। সারারাত বুটের শব্দ শুনেছি। সকালে রাস্তায় দেখেছি রক্তের বন্যা। উত্তরাবাসীর অনেকেরই দেখা এই দৃশ্য।
এখন যেসব নেতারা সংস্কারের যেসব ধারা তাদের ক্ষমতাকে পোক্ত করবেনা সেইসব ধারা বাতিল করছেন তারা তা দেখেননি। তারা এখন সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। পতিত সরকারের লোকজনও বলতো সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবেনা। একই সুর ধ্বনিত হচ্ছে সরকারের কন্ঠে।
কোন সংবিধান মেনে বেগম জিয়াকে কারামুক্ত করা হয়েছিল। যখন রাস্তায় মানুষ মারা যাচ্ছিলো তখন এই ছাত্র নেতৃত্ব বেগম জিয়ার মুক্তি চেয়েছে তাৎক্ষণিক এবং তা দেয়া হয়েছে । বি এন পি , জামাতের সব নেতা জেল থেকে বেরিয়ে এসেছে কোন সংবিধান ফলো করে। মানুষের জন্য সংবিধান। সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। এটা কোন ধর্মগ্রন্থ নয় যে এটার দোহাই দিয়ে প্রতারণা করা হবে।
এখন বিভিন্ন মাধ্যমে একটি শ্রেণিকে দেখা যাচ্ছে প্রফেসর ইউনুসকে অপমান করে কথা বলতে। তাদের কথা শুনলে মনে হয় তাদের এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। এরা সুবিধাভোগী যেদিকে পানি পড়ে সেদিকে ছাতা ধরার দল। এরা সাংঘাতিক।
প্রফেসর ইউনুস সাহেবএর সময়ে তিনি যথেষ্ট দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি এটা ঠিক কিন্তু কেন পারেননি। আমরা কতটা সহায়তা করেছি তাঁকে বলতে পারি কি? আমরা পরদিন থেকেই ক্ষমতায় যেতে উঠেপড়ে লেগেছি। নিজেরাই প্রচার করেছি ইউনুস ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়। কিন্তু ইউনুস যখন বলেছেন তখনই নির্বাচন হয়েছে। এক শ্রেণির লোকজন গলা ফাটাচ্ছেন ইউনুস কি করেছেন। আমার প্রশ্ন তারা কি করেছেন তেল দিয়ে উচ্ছিষ্ট ভোগ করা ছাড়া। এইসব জ্ঞানপাপীদের গলা ছাড়া কিছু নাই। ইউনুস যখন দায়িত্ব নিলেন তখন সবাই মিলে পথে নামলেননা কেন? কেন আন্দোলন করলেন না যে তাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেয়া যাবেনা। তিনি বাটপার। তখন কিন্তু আমরা চুপ করে ছিলাম । অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু একটি দেশকে কিভাবে সামনে নেয়া যাবে সেটা না ভেবে সুবিধা খুঁজে গেছি আমরা ।
যাদের নিজেদের দূর্বলতা আছে তারাই নোংরা সমালোচনা করছি। তারা ইউনুসের অবদান খোঁজেন কিন্তু তেল দেয়া ছাড়া তাদের কি অবদান আছে ? আন্দোলনের সময় তাদের দেখা যায়নি। শেষ মূর্হতে এসে যখন বুঝতে পেরেছেন বাতাস তখন একেবারে ভোল পাল্টে ফেলেছে। এরাই পতিত সরকারের কাছের লোক ছিল।
কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। প্রফেসর ইউনুস সহ অন্যান্য উপদেষ্টাদের দূর্নীতি অনুসন্ধান করে প্রমাণ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এটাই সবাই আশা করে। তার আগেই গালাগালি করার অর্থ হচ্ছে বঞ্চিতদের গায়ের ঝাল মিটানো।
কেন কেউ বলছেন না দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান চরমভাবে দলীয়করণ হচ্ছে। সর্বশেষ বি সি বি। যারা প্রতিবার ছাত্রনেতাদের গালি দিচ্ছেন ভাত হজম করার জন্য তারা চুপ করে আছেন কেন ? অনেকে আখের গুছিয়ে জায়গামতো বসে গেছে । যারা পারেননি তারা ঝাল মিটাচ্ছে।
খেয়াল করে দেখবেন যারা গালাগালির চাষাবাদ করছেন তাদের কোন না কোন এজেন্ডা রয়েছে নাহয় তারা না পাওয়ার বেদনায় ভুগছেন।
ছাত্রদের ওপর আপনাদের এতো রাগ কারণ আপনাদের লুটেপুটে খাওয়ায় বাধ সেধেছে তারা। যেসব ছাত্রনেতার দূর্নীতি প্রমাণ হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। সেইসাথে নিজেদের দূর্নীতি প্রকাশ করা হোক।
কথায় আছে না পাপ বাপকেও ছাড়েনা। এদেশের মানুষ সংঘাত চায়না। পেটভরে খেয়ে শান্তিতে ঘুমাতে চায় নিরাপদে। এই চাওয়া পূরণ নাহলে এই সহজ সরল মানুষগুলো গুলির সামনে দাঁড়িয়ে যেতে পিছপা হয়না তা ৭১ ,২৪ দেখিয়ে দিয়েছে।
ফেরদৌসী পারভিন
কবি ও ক্রিটিক
উত্তরা
৯/৪/২০২৬


Comments