শব্দ বাণে কেন অস্বস্তি -----
- ফেরদৌসী পারভিন | Ferdawsi Pervin
- Feb 25
- 2 min read
ক্ষমতার চেয়ারে বসে ক্ষমতাধর বলেছেন ইনকিলাব জিন্দাবাদ বলা যাবেনা। এসব বাংলা শব্দ নয়। বাংলা শব্দ ব্যবহার করতে হবে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ বললে তাদের শাস্তি হবে কি-না জানিনা । যারা বলবে ইনসাফ ইনসাফ তাদের শান্তি চাওয়া হবে কি? এটাও এখন পর্যন্ত জানিনা।
কারণ এগুলো নাকি উর্দু শব্দ! পাকিস্তানের শব্দ!
বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী হিসেবে জানি অনেক ভাষার সমন্বয় হয়েছে বাংলা ভাষায়। এইসব শব্দ অন্য ভাষার হলেও আমাদের বলায় ,লেখায় ব্যবহার হওয়ার ফলে সেইসব শব্দ বাংলার রুপ ধারণ করেছে এবং শব্দ সম্ভার বৃদ্ধি করেছে। শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সুবিধা হয়েছে।
পানি, ফালতু, পহেলা, নতুন (নয়া), চানাচুর, জিন্দাবাদ যারা ব্যবহার করছেন তারা কি জানেননা এগুলো হিন্দি শব্দ! তাহলে তো পানি বলা যাবেনা। তাই নয়কি। যারা ব্যবহার করছেন এই শব্দগুলো তারা কি ভারতে চলে যাবে?
আদালত, আসামি, উকিল, হুকুম, নগদ, তারিখ, ফয়সালা, আইন, কলম, কিতাব, জান্নাত, জাহান্নাম, ইমান, খাতা এবং মেজাজ এই শব্দগুলো যারা ব্যবহার করেন তাদের আমরা কি বলবো ? সৌদিতে চলে যান।
কারণ এগুলো আরবি শব্দ!
টেবিল, স্কুল, কলেজ, পেন, মোবাইল, ইন্টারনেট, বাস, ট্রেন, ডাক্তার, হাসপাতাল, নার্স, যারা ব্যবহার করেন তারা কি যে দেশের ভাষা ইংরেজি সেখানে চলে যাবে? কারণ এগুলো ইংলিশ শব্দ।
এছাড়াও বাংলা ভাষায় ফারসি ,পূর্তগীজ ইত্যাদি ভাষার মিশেল আছে।
এদেশে সাধু ,চলিত ও আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার সর্বজনবিদিত। অনেক অঞ্চলে তরকারিকে সালুন বলে। সালুন কি বাংলা ভাষা? অথচ জ্বালানি মন্ত্রী কেন এমন কথা বললেন আমরা আম জনতা বুঝতে পারছিনা।
জ্বালানিমন্ত্রী যদি বলে থাকেন যে ,
ইনকিলাব' আমাদের ছেলেদের ভাষা হয়ে গেছে, ইট ইজ এ ফেইলিয়র অব এ টিচার। এটা কতটুকু ঠিক বলেছেন আমি জানিনা।
তিনি কি ঠিক বলেছেন ? নাহ মনে হয় বলেননি। খোঁজ নিলে দেখা যাবে ওনার বা ওনাদের ছেলেমেয়ে ,নাতিনাতনিরা অধিকাংশ ফট ফট করে ইংরেজি বলে। বিদেশে পড়ে। অনেকে বাংলা বলতেও পারেনা । তাহলে তাদের আমরা কি বলবো ?
এই ফেইলরের দায় কার?
শেষ করবো একটা গল্প দিয়ে।
একবার এক রিকশায় উঠে ভদ্রলোক বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চল। রিকশাওয়ালা তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চেনেনা। সে বললো ,আমিতো চিনিনা আপনে আমারে দেখাইয়া লইয়া যাইয়েন। যাত্রী বললো , ঠিক আছে চল। যাত্রীর নির্দেশিত পথে একসময় রিকশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে গেলো । তখন সেই রিকশা চালক বললো ,ওহ এইডাতো ঢাকা ইনভার্সিটি। আপনে বাংলা কইবেনতো। আপনি ইংরেজি কইতাছেন ,,বিশ্ববিদ্যালয়।
বহুল ব্যবহারের ফলে ইউনিভার্সিটি শব্দটি অনেকের কাছে বাংলা হয়ে গিয়েছে।
আসলে শব্দের ব্যবহার হয় বলার বা লেখার প্রয়োজনে। বিষবস্তু ও বক্তব্যের প্রয়োজনে শব্দচয়ন করা হয়। কোথায় ব্যবহার হচ্ছে ,কেন ব্যবহার হচ্ছে এবং বক্তব্যকে দৃঢ করার জন্য শব্দ বেছে নেয়া হয়। যেহেতু বাংলা ভাষায় অন্য ভাষার অনুপ্রবেশ নতুন কিছু নয় তাই ইনকিলাব , ইনসাফ ,জিন্দাবাদ বলা যাবেনা এটা ঠিক নয়। আরেকটি কথা শব্দের হিন্দু মুসলমান নাই।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে শ্লোগান হিসেবে ইনকিলাব ব্যবহার করা হয়েছে বহুবছর আগে। আর যিনি বলছেন তিনি নিজেই রক্তক্ষরণ না বলে হার্ট ব্লিডিং বলেছেন। রক্তক্ষরণ চমৎকার একটি শব্দ। তাহলে মন্ত্রী মহোদয় সেটি ব্যবহার না করে ইংরেজি শব্দ কেন ব্যবহার করলেন ??
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ না বলতে পারার কোন কারণ নাই। আর সময়ের সাথে সাথে এবং স্থান পরিবর্তনের সাথে ভাষার ব্যবহার বদলায়। লেখক বা বক্তার মনেরভাব যথাযথ ভাবে প্রকাশ করার জন্য যে শব্দ যথোপযুক্ত মনে হয় সেটেই তিনি ব্যবহার করবেন। ওই যে কথায় বলেনা এক দেশের বুলি আরেক দেশের গালি।
আসলে বাংলা ভাষা থাকেই না আরবি ফার্সি বাদ দিলে। এটা কিন্তু আমার কথা না প্রমথ চৌধুরীর কথা।
ফেরদৌসী পারভিন
২২ / ২ /২০২৬
উত্তরা

Comments