
ভোরের মুখ ।-----
- ফেরদৌসী পারভিন | Ferdawsi Pervin
- Feb 27
- 2 min read
কন্যার মুরগী ডিম পেরেছে। তারাতো খুব খুশি তাদের সাথে আমিও খুশি কারণ তাদের উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে।
কন্যা যখন ডিম সংক্রান্ত আলাপ করছিল তখন নাতি স্কুল থেকে ফিরলো। ভিডিও কলে যেহেতু কথা বলছিলাম সে সামনে এসে বল্ল তাদের মুরগী ডিম দিয়েছে। চারমাস পরেই ডিম দিয়েছে। তাদের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক।
আমার হেল্পিং হ্যান্ড কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলো। সে বল্ল ,না না ৬ মাসের আগে মুরগী ডিম দেয়না। সে গ্রামে অনেক মুরগী পেলেছে এব্যাপারে সে বিশেষজ্ঞ। ৬ মাসের আগে মুরগী ডিম দিতেই পারেনা। কত মুরগী পাললাম। আপায় এইডা কি কয় ? মেয়ে বল্ল না ডিম দিয়েছে। তখন আমার হেল্পিং হ্যান্ড বল্ল , হইবারও পারে। আপা যে দুধ কলা খাওয়াইছে ,আপেল। দেবারও পারে। কওনতো যাইবো না বিদেশের ব্যাপারই আলাদা। যাইহোক কিছুক্ষণ পর প্রমাণ স্বরূপ ডিমের ছবি পাঠালো মেয়ে। ডিম দেখে বলে , কে জানে খালা মুরগী তো আর কম পালছি না ডিমও দিছে মেলাগুলান। এমন কথা আর জীবনে শুনি নাই।
তাদের সমস্যা এখন অন্যখানে। মোরগ বাবাজী এখন শুধু ভোরের জানান দেয়না ,প্রহরে প্রহরে ডেকে প্রহরের জানান দেয়। পাশের বাসার দুটি পিচ্চি নাকি তার সাথে গলা মেলায়। তন্ময় কি জানি একটা কিনে এনেছে যেটা গলায় পরিয়ে দিলে আর তিনি ঘন্টায় ঘন্টায় ডেকে নিজের অস্তিত্বের জানান দেবেন না। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি । সে সেটা নিজে খুলতে না পারলেও তার দুই প্রেমিকা বহু কসরত করে ঠোঁট দিয়ে তা খুলে ফেলেছে।
মেয়ে ,মোরগটারে দিয়ে দিতে চাইছে। খরিদ্দারও পাওয়া গেছে। কিন্তু মনস্থির করতে পারছে না। এদিকে হয়েছে আরেক কান্ড তারা সেহেরি খেতে উঠলে আলো জ্বালালেই তিনি খুব খুশি হয়ে ডেকে উঠছেন। ভাবখানা আমিও জেগে আছি।
মেয়ে ব্যাকইয়ার্ড এর দিকের আলো না জ্বালিয়ে মোটামুটি অন্ধকার ঘরেই খেতে শুরু করেছে আর ভাবছে , যাক আজ আর বুঝতে পারেনি যে আমরা জেগেছি। তাদের সাফল্যে পানি ঢেলে দিয়ে ফ্রেজি ,ওনার নাম ডেকে উঠলেন। যেন হে মানব ,আমাকে এতটা বোকা ভাবার কোন কারণ নাই এবং ফাঁকিবাজ নই। তাই আমি আমার দায়িত্ব সুচারু ভাবে পালন করি। আলো দেখলেই আমার কাজ মানব জাতিকে জানিয়ে দেয়া যে রাত্রির অবসান হচ্ছে। আরেকটি নতুন দিনের আগমন ঘটছে। অতএব উঠে পড়। ভোরের অনিন্দ সুন্দর মুখ উপভোগ কর। আমি আছি তোমাদের সাথে।
প্রফেসর ফেরদৌসী পারভিন
২৫ ,২ , ২০২৬
উত্তরা।

Comments