বিদায় এক জীবন্ত উপাখ্যানের
- ফেরদৌসী পারভিন | Ferdawsi Pervin
- Jan 5
- 1 min read
বিদায় এক জীবন্ত উপাখ্যানের ---
আভিজাত্যের প্রতিক বেগম জিয়াকে প্রথম দেখেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । মুগ্ধতার সেই শুরু। একটা মানুষ কতটা অভিজাত ও দৃঢ় হতে পারে সেদিন তার বক্তব্য থেকে উপলব্ধি করেছিলাম। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। একনেত্রী লালদিঘীর ময়দানে বলে এলেন ,এরশাদের অধীনে ভোটে গেলে সেই দল জাতীয় বেঈমান হবে।
মজার ব্যাপার কথিত আছে পরেরদিন এরশাদের সাথে লং ড্রাইভে যেয়ে কয়েক বস্তা টাকা নিয়ে হাসিনা ভোটে গেলেন। বেগম জিয়া কোন প্রলোভনেই ভোটে গেলেন না। জেল খাটলেন। কপালে আপোষহীন নেত্রীর তিলক। আমি তখন বঙ্গভবনের ভেতরে প্রথম সংসার শুরু করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। বঙ্গভবনে থাকার সুবাদে হাসিনার বিশ্ব বেঈমান হবার প্রক্রিয়ার নানান আলোচনা শুনতাম । বসবাস ছিল আর্মি ,নেভী , বিমান বাহিনীর অফিসারদের সাথে। এইসব অফিসাররা বিকেলে বঙ্গভবনের ভেতর টেনিস কোর্টে লন টেনিস খেলতে যেতো। আমিও যেতাম আমার হাসবেন্ডের সাথে মাঝে মাঝে টেনিস কোর্টে। সেখানে লং ড্রাইভের আলোচনা হতো আরো অনেক হাস্যরসের কথা হতো। আমার বয়স তখন যেহেতু অনেক কম রাজনীতির জটিলতা তেমন বুঝতাম না। কিন্ত বেগম জিয়ার অনমনীয় মনোভাব নিয়ে অনেকেই শ্রদ্ধা করে কথা বলতেন।
পরবর্তীতে বেগম জিয়াকে হোটেল পূর্বানী থেকে গ্রেফতার করা হয় কিন্তু বেগম জিয়া মাথা নোয়াননি। সময়ের সাথে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা বেড়েছে।
পরবর্তীতে আরো অনেকবার বেগম জিয়ার সাথে কুশল বিনিময়ের সুযোগ হয়েছে। সুযোগ হয়েছে ডিনারে অংশগ্রহণের। তিনি যখন উপস্থিত হতেন তখন এক রাজকীয় পরিবেশ তৈরি হতো চারিদিকে। উপস্থিতির মধ্যে বেগম জিয়া বিশাল আকৃতির হীরের মতো জ্বলজ্বল করতেন। আমরা সবাই হা করে তাকিয়ে থাকতাম। খুবই নরম স্বরে কথা বলতেন। পরিচয় জানতে চাইতেন।
আমার মুগ্ধতা ছিল তাঁর আভিজাত্যের জন্য আমার ভালোবাসা ছিলো সততা ও অন্যায়ের সাথে আপোষ নাকরা। দেশপ্রেম ছিলো তাঁর অহংকার।
একটা উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন। পরম করুনাময় তাঁকে ক্ষমা করে দেন। আমিন।

Comments