
পুরনো বোতলে নতুন মদ
- ফেরদৌসী পারভিন | Ferdawsi Pervin
- Apr 2
- 3 min read
পুরনো বোতলে নতুন মদ -----
গণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দানকারী ছাত্রদের এক একবারের ভাষ্য তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আলোড়ন তুলছে। তারা বিভিন্ন চ্যানেলে বিভিন্নভাবে সেইসব বক্তব্য ব্যাখ্যা করছেন এবং অবশ্যই তা যাদের দ্বারা পুষ্ট হয়ে করছেন কাজটি এবং তাদের কোলে ঝোল টানার চেষ্টা করছেন।। তবে এরমধ্যে দুএকজন ব্যতিক্রম আছে যারা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দিয়েছেন যাতে উঠে এসেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের নেপথ্যের অনেক তথ্য যা আমরা ৫ আগষ্টের পর থেকে অনেক মাধ্যম থেকে শুনে জেনেছি । তিনি আবারো সাক্ষাৎকারে বলেছেন ,৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের আগেই তাদের পরিকল্পনা ছিল সকল রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করার। এই সরকারের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বিদায় করে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার করা।
তবে ৫ আগস্ট রাতে একটি চ্যানেল থেকে এক জুম মিটিংয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই জাতীয় সরকারের প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি ছাত্র নেতৃত্বের দেয়া প্রস্তাব গ্রহণ করেননি বরং তিনি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের লক্ষ্যে মাত্র সাতজন উপদেষ্টা নিয়ে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন যা আমরা জনগণ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সেই চাওয়া জানতে পারি। সেই মিটিংয়ে তারেক রহমান তার মেয়ে জায়মা রহমানকেও সমন্বয়কদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলেই শুনেছি। কিন্তু কেন? ভবিষ্যৎ তৈরি করার জন্য ? এইসব কথা আসিফ মাহামুদ নতুন করে সাক্ষাৎকারে বলেছেন। আসিফ মাহামুদ বলেন ,
আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য সমন্বয়করা বিএনপির এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন ছাত্র-জনতা শুধুমাত্র একটি নির্বাচনের জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয়নি। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ও স্থায়ী সংস্কারের জন্যই এই গণঅভ্যুত্থান এবং আত্মত্যাগ সংঘটিত হয়েছে। এইকথাগুলি তারা বারবার বলেছে , বলছে।
পরদিন ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সরকার গঠন নিয়ে বঙ্গভবনে প্রায় চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে সামরিক বাহিনী এই বৈঠকটি সেনানিবাসে করতে চেয়েছিল, কিন্তু সমন্বয়করা সেনানিবাসে যেতে অস্বীকৃতি জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মধ্যবর্তী স্থান হিসেবে বঙ্গভবনকেই বেছে নেওয়া হয়। আসিফের ভাষা অনুযায়ী।
বঙ্গভবনে বৈঠকে আসিফ, নাহিদ, ড. আসিফ নজরুল ও অধ্যাপক তানজিমুদ্দিনের উপস্থিত ছিলেন সেই সাথে তিন বাহিনীর প্রধান ও সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে শেষ মুহূর্তে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
আলোচনার মূল বিষয় ছিল প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন। আসিফ মাহামুদরা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রধান হিসেবে বলেন এবং এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সামরিক কর্মকর্তারা তার আইনি জটিলতা এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের অপছন্দের বিষয়টি তুলে ধরে আপত্তি জানান।
কিন্তু ছাত্ররা তাদের প্রস্তাবে অনড় থাকে। তারা ইউনুস সাহেবকে প্রধান হিসেবে চায়।
সেনা কর্মকর্তাদের যুক্তি ছিল, ড. ইউনূস সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় এবং একটি বড় গোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় সংস্কার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে সমন্বয়করা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পছন্দ-অপছন্দের আর কোনো মূল্য জনগণের কাছে নেই। শেষ পর্যন্ত ছাত্র প্রতিনিধিদের এই দৃঢ় অবস্থানের কারণেই ড. ইউনূসের নাম চূড়ান্ত হয়।
এখন আসি পরবর্তী সময়ে। ১৭ মাসের সরকার নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিয়েছে। কিছু মানুষ খুব বাজে ভাবে ইউনুস সাহেবকে গালাগালি করছে এবং বলছে এই দেশের প্রতি ইউনুস সাহেবের কি অবদান । তারা সবাইই সুবিধাভোগী। সুযোগ বুঝে তারা ছাতা ধরতে ওস্তাদ। মজার ব্যাপার হচ্ছে যারা একথা বিভিন্ন টকশোতে বলছেন তাদের কি অবদান জনগণ কিন্তু জানেনা । তারা যখন যে সরকার আসে তার পদলেহন করে নিজের আখের গুছয়ে নেয়। ইউনুস সাহেবের কোন অবদান না থাকলেও একটা নোবেল এই দেশকে পরিচিত করেছে।
যে সংস্কারের কথা সনদে আছে তা কেন সরকারি দল মানতে চাইছে না। মেনে নিয়ে সংস্কার করলেই দেখতে পাওয়া যাবে কি করেছে? সেটি ভালো নাকি মন্দ? সেটাও জানা যাবে।
সরকার দায়িত্ব নিয়েই সমস্ত দলীয় ভিসি নিয়োগ দিয়েছেন। সিটি করপোরেশনে নিজেদের লোক বসিয়েছেন আবার বলছেন সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবেনা। তাহলে পতিত সরকারের সাথে পার্থক্য কোথায় ? এর জন্য এতো মানুষ জীবন দেয়নি।
১৭ মাস ধরে এমন কোন আন্দোলন নাই যে হয়নি। এখন হচ্ছেনা কেন? তাহলে কি ধরে নিতে হবে আন্দোলনগুলো ছিল পুরোটাই তৈরি করা এবং সরকারকে সমালোচিত করাই ছিল উদ্দেশ্য।
দেশে তেলের তীব্র সংকট দেখানো হচ্ছে। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী তা হবার কথা নয়। সেটি সরকার সমাধান করতে পারেননি। আমাকে থানা থেকে লিখিয়ে নিয়ে জেনারেটরের তেল নিতে হয়েছে। আগেতো কখনো নিতে হয়নি দাম বেশি দিতে হলেও। অকটেন ,পেট্রোল চাহিদার তুলনায় বেশি রিফাইন করা হয় তাহলে সেই পুরনো কালচার শুরু হয়ে গেছে। সাধারণ জনগণকে সাত পাচ বুঝ দেয়া।
শুনছি সবকিছুর কার্ড দেয়া হবে। তাতে কি সমাধান হবে। দলের নব্য পাচাটারা যে চাঁদাবাজি ,মজুত করে সাধারণের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে সেটা দেখার কেউ নাই। বাপ ,ছেলে সবাই মিলে কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে যাদের দুদিন আগেও সের দরে চাল কিনতে হতে। এদের শরীরে চেকনাই জমে গেছে। ঈদ কেমন হলো সেটি নিয়ে পরে কথা বলবো। এই দেশ জনগণের। তাদের আর বোকা বানাবেন না।
ফেরদৌসী
ক্রিটিক ও কবি
২৯/৩/২০২৬
উত্তরা।

Comments