top of page

অর্থনৈতিক শক্তিই

  • Writer: ফেরদৌসী পারভিন | Ferdawsi Pervin
    ফেরদৌসী পারভিন | Ferdawsi Pervin
  • Mar 18
  • 3 min read

নারীর অসম্মান থেকে মুক্তির পথ।


আমাদের সমাজে নারী সম্মান পায়না এই কথাটি আমরা প্রায়শই শুনে থাকি। এই শোনাই কোন মিথ্যে নাই। বরং শতভাগ সত্যি । আমারা নারীরা ঘরে বাইরে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতিত। এই নির্যাতনের পেছনে আমাদের সামাজিক কাঠামো এবং পুরুষতান্ত্রিকতা শুধুমাত্র দায়ী নয়। এর পেছনে নারীর দায়িত্ব কম নয়। কারন সমাজের অর্ধেকের বেশি নারী জনগোষ্ঠী। কিছু নারী সমাজের সাথে যুদ্ধ করে নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু পাশাপাশি নারীর বিশাল সংখ্যক অংশ তাদের কর্মকান্ডের দ্বারা অন্য নারীদের অসম্মানিত করছে। এইসব নারী কিন্তু সমাজের মধ্যবিত্ত এবং বিত্তশালীদের মধ্যে বেশি। প্রান্তিক নারীরা পরিশ্রম করে উপার্জন করে এবং সংসারে অবদান রাখে যা তথাকথিত স্বাধীনচেতা নারীরা রাখেনা। বরং স্বামীর আয়ের সাথে ব্যায়ের কোন সংগতি না থাকা স্বত্তেও না দেখা ,না বোঝার ভান করে চুপ থাকে। দেখতে পাওয়া যায় এমন কোন কাজ না করলেও স্বামীদের অস্বাভাবিক আয় নিয়ে তাদের কোন বক্তব্য থাকেনা । এই ধরনের নারীর সংখ্যা আমাদের সমাজে কম নয়।


পাঠক হয়তো ভাবছেন হটাৎ আমার কি হলো যে আমি নারীর বিরুদ্ধে কথা বলছি। যে আমি নারীর প্রতি যেকোন অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাহলে কেন বলছি আজ? আসলে কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু খবর ,ভিডিও , ও বিভিন্ন জনের টাইম লাইনের স্ট্যাটাস দেখছি তাই আজকের এই লেখা । তারমানে এই নয় যে এর আগে এমন কিছু শুনি নাই বা দেখি নাই। সত্যি বলতে কি আমার চারপাশে প্রতিনিয়ত দেখছি এবং শুনছি।

আর কয়েকদিন পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে । উৎসবকে সামনে রেখে সমাজের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের সাধ্যমত পোশাক ,খাবার বা অন্যকিছু ক্রয় করে থাকে স্বজনদের উপহার দেয়ার জন্য। ফুটপাত থেকে অভিজাত শপিং মলে উপচে পড়া ভীড়। সকলেই সাধ্যমত কেনাকাটা করছে। সোনার দাম আকাশ ছোঁয়া হলেও সেখানেও নারী পুরুষের ভীড়। সকলেই চাইছে সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করতে। কিন্তু এরমধ্যেই যাদের অবৈধ আয় রমরমা তাদের কেনাকাটা লাগামহীন। আর এখানেই বেধেছে বিড়ম্বনা।

কয়েকদিন ধরে মুখ বইয়ের পাতায় বেশকিছু খবর ভাইরাল হয়েছে । দেখা গেল স্বামীর সামর্থ্য কম তাই তার সাধ্যের মধ্যে ঈদের পোশাক কিনতে বল্লে স্ত্রী বাজারের মধ্যেই স্যান্ডেল খুলে মারধোর শুরু করে। বেচারা স্বামী লজ্জায় মাথা নত করে আছে। আরেক জায়গায় স্ত্রীর পছন্দ মতো দামী পোশাক না কিনে দিয়ে পরিবারের সকলের জন্য

মা ,বোনের জন্য নতুন পোশাক কিনলে স্ত্রী রাস্তায় ঝগড়া শুরু করে। ফলশ্রুতিতে স্বামী রাস্তার মধ্যেই স্ত্রীকে মারতে শুরু করে। এরকম আরো অনেক ঘটনা আছে। আবার অনেক নারী স্বামীকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে দামী উপহার হাতিয়ে নেয় বা নিচ্ছে। এইযে বিষয়গুলো কি নারীর সম্মান বৃদ্ধি করে? আমাদের নারীদের প্রতি পুরুষের প্রধানতম অভিযোগ বিভিন্নভাবে দামী উপহার দিতে বাধ্য করা। এবং এই সুযোগে পুরুষ তার দূর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে স্ত্রীর অফুরন্ত চাহিদাকে দায়ী করে।

কথাটা পুরোপুরি সত্যি নাহলেও অনেক ক্ষেত্রেই সত্যি।

অনেকেই কে কিভাবে কি কি উপহার স্বামীর কাছে থেকে আদায় করেছে তার বর্ননা দিচ্ছে মুখ বইয়ে।

আমার বক্তব্য এখানেই । নারী যদি ছলে বলে কৌশলে স্বামীর কাছে থেকে উপহার সামগ্রী আদায় করে তাহলে তার সম্মান রক্ষা পাবেনা এটাই স্বাভাবিক। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন নারী স্বামীর কাছে কিছু আদায় করতে পারেনা বা করেনা। স্বামী তার সাধ্যের মধ্যে স্ত্রীকে উপহার দেয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে আমার হেল্পিং হ্যান্ডের কথা না বল্লেই নয়। সে তার কায়িক শ্রমের উপার্যিত অর্থে সকলের জন্য পোশাক কিনেছে। এমনকি শশুরবাড়ির জন্যও। দুদিন আগে আমাকে বল্ল , খালা নিজের কামাইয়ের টাকা দিয়ে কাউরে কিছু দেওনের কথাই আলাদা। স্বামীর কাছে চাওন লাগেনা। এইডা যে কতবড় শান্তি । ওর কথা শুনে মনে হলো বস্তিতে বসবাস করেও তার যে উপলব্ধি তা আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের ওপর তলার নারীদের ক্ষেত্রে নেই। তারা স্বামীকে প্রেশার দিয়ে আদায় করাকে অধিকার মনে করে। হাত পেতে আত্মসম্মান রক্ষা করা যায়না । অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া নারী মুক্তি সম্ভব নয়। মুক্তি মানে সম্মানের সাথে নিজেকে সংসারে প্রতিষ্ঠা করা। তবে স্বামীর পকেট মেরে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আসবেনা । একটা সত্যি ঘটনা বলে আজকের লেখা শেষ করবো ।

আমার পরিচিত এক মহিলা একবার আমাকে বলছে , জানো আমি আজ তোমার খালুর কাছে প্রায় ধরা পড়ে গিয়েছিলাম। আমি যেহেতু তখন কলেজে পড়ি বিয়ে হয়নি তাই ব্যাপারটা বুঝতে পারছিলাম না। জানতে চাইলাম , কিসের ধরা পড়া? উনি তখন বললেন , আমি তোমার খালুর পকেট থেকে সুযোগ মতো টাকা সরাই। আমার এতো ছোট ছেলে যে সেটা শিখে যাবে তাতো ভাবিনি। আজ তোমার খালু শার্ট খুলে চেয়ারেরে পেছনে ঝুলিয়ে রাখার পর আমার ছেলে পকেটে হাত ঢুকিয়ে টাকা এনে আমাকে দিচ্ছে। তোমার খালু সেটা দেখে বল্ল যে ,পকেটে যে টাকা থাকে ও সেটা বুঝলো কি করে ? তুমি কি আমার পকেট থেকে টাকা সরাও নাকি?

পাঠক বুঝতেই পারছেন তখনকার পরিবেশ। গল্প নয় সত্যি ঘটনা।

তাই আমাদের কোন সম্মান নাই , পুরুষ আমাদের কোন মূল্য দেয়না এসব বলে কিছুই অর্জন করা যাবেনা। অর্থনৈতিক মুক্তি সব অপমান মুছে না দিলেও হাত পাতার অসম্মান থেকে রক্ষা করবে।


ফেরদৌসী পারভিন

কবি ও ক্রিটিক

১৮/৩/২০২৬

উত্তরা


 
 
 

Recent Posts

See All
কবিতা ।

নয়নভাগা ----- পাহাড়ের গায়ে মেঘ লেগে আছে তোমার চোখের পাতায় ঘুম লেগে থাকার মতো । দূর থেকে দেখি বাতাস তাড়ানো ক্লান্ত মেঘকে একটুখানি ছুঁয়ে দিলেই গলে যাবে মোমের মতন। আমি ভালো নেই ,একদম ভালো নেই , হঠ

 
 
 
সুখের শব্দ সমুহ

সুখের শব্দ সমুহ ----- দীর্ঘ ৩২ বছরের বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় ছিলাম। বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে প্রফেসর হয়েছি এবং অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নিয়েছি। আমি প্রফেসর ফেরদৌসী পারভিন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় চাকুরী

 
 
 

Comments


©2024-26 | MKD

bottom of page